يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
(তরজমা) হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।-সূরা বাকারা (২) : ১৮৩
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন-
فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
(তরজমা) সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে।- সূরা বাকারা (২) : ১৮৫
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إذا رأيتم الهلال فصوموا وإذا رأيتموه فافطروا، فإن غم عليكم فصوموا ثلاثين،
وفي رواية : صوموا لرؤيته وأفطروا لرويته، فإن عم عليكم فاكملوا العدد.
যখন তোমরা (রমযানের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোযা রাখবে আর যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোযা বন্ধ করবে। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ দিন রোযা রাখবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯০৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১০৮০ (১৭-১৮)
যাদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে:
রমজানের রোজা রাখা প্রতিটি সুস্থমস্তিস্ক সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ।
কোনো বৈধ কারণ ছাড়া রোজা না রাখা বা ভেঙে ফেলা হারাম। তবে শরীয়ত কিছু বিশেষ অবস্থায় রোজা না রাখার বা ভেঙে ফেলার অনুমতি দিয়েছে।
১. মুসাফির
মাসআলা: মুসাফিরের জন্য সফরের হালতে রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে অস্বাভাবিক কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। আর অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোজা রাখা মাকরূহ। এ অবস্থায় রোজা না রেখে পরে তা কাজা করবে।
আছিম রহ. বলেন, আনাস রা.কে সফরকালে রোজা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, যে রোজা রাখবে না, সে অবকাশ গ্রহণ করল আর যে রোজা রাখল সে উত্তম কাজ করল। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/১৩২; রদ্দুল মুহতার ২/৪২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩
মাসআলা: সফরের হালতে রোজা রাখা শুরু করলে তা আর ভাঙা জায়েজ নয়। কেউ ভেঙে ফেললে গুনাহগার হবে। তবে কাফফারা আসবে না। শুধু কাজাই যথেষ্ট।
আনাস রা. বলেন, কেউ রোজা রেখে সফরে বের হলে রোজা ভাঙবে না। তবে যদি পিপাসার কারণে প্রাণনাশের আশঙ্কা হয় তাহলে রোজা ভাঙতে পারবে, পরে তা কাজা করে নেবে। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১
মাসআলা: মুসাফির সফরের কারণে রোজা রাখেনি, কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই মুকীম হয়ে গেল। তাহলে দিনের অবশিষ্ট সময় রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে পরবর্তী সময়ে এ রোজার কাজা অবশ্যই করতে হবে।
ইবরাহীম নাখায়ী রহ. বলেন, যে মুসাফির রমজানের দিনে (সফরের হালতে) পানাহার করেছে সে মুকীম হয়ে গেলে দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/২২১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮
মাসআলা: রমজানের দিনে হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র হলে অবশিষ্ট দিন রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে এই ওযরে ছুটে যাওয়া রোজাগুলোর সাথে এ দিনের রোজাও কাজা করবে।
হাসান রাহ. বলেন, সুবহে সাদিকের পর যে হায়েয থেকে পবিত্র হয়েছে সে দিনের বাকি অংশে পানাহার করবে না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/২২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১
২. অসুস্থ ব্যক্তি
মাসআলা: রোজার কারণে যে রোগ বৃদ্ধি পায় বা রোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে সে রোগে রোজা ভাঙার অবকাশ আছে।
উল্লেখ্য, আশঙ্কা যদি সুস্পষ্ট হয় তাহলে তো কথা নেই। নতুবা একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার চিকিৎসকের মতামতের প্রয়োজন হবে। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২
৩. গর্ভবতী
মাসআলা: রোজা রাখার কারণে গর্ভবতী মহিলা নিজের কিংবা সন্তানের প্রাণহানী বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর প্রবল আশঙ্কা করলে তার জন্য রোজা ভাঙা জায়েজ। পরে এ রোজা কাজা করে নেবে। —আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২
৪. দুগ্ধদানকারিণী
মাসআলা: দুগ্ধদানকারিণী মা রোজা রাখলে যদি সন্তান দুধ না পায় আর ঐ সন্তান অন্য কোনো খাবারেও অভ্যস্ত না হয়, ফলে দুধ না পাওয়ার কারণে সন্তানের মৃত্যুর বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর আশঙ্কা হয়, তাহলে তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরে কাজা করে নেবেন।
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। জামে তিরমিযী ১/১৫২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২
৫. দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি
মাসআলা : বার্ধক্যজনিত কারণে রোজা রাখতে সক্ষম না হলে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক রোজার পরিবর্তে একজন গরীবকে দুই বেলা খাবার খাওয়াবে অথবা পৌনে দু কেজি গমের মূল্য সদকা করবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন— আর যাদের রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর তারা ফিদইয়া-একজন মিসকীনকে খাবার প্রদান করবে। সূরা বাকারা (০২) : ১৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭
অন্তঃসত্ত্বা নারীর রোজার মাসয়ালা:
গর্ভবতী নারীদের মধ্যে রোজা নিয়ে অনেক ধরনের প্রশ্ন থাকে। কেউ বলে রোজা রাখা যাবে, আবার কেউ বলে যাবে না। প্রকৃতপক্ষে রোজা রাখা যাবে কি না তা নির্ভর করে গর্ভবতীর স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর।
রোজা রাখার কারণে গর্ভবতী নারী নিজের বা তার সন্তানের প্রাণহানী বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানীর প্রবল আশঙ্কা হলে তার জন্য রোজা না রাখা বা ভাঙা জায়েয। তবে পরে কাজা করে নিতে হবে।
হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। (জামে তিরমিযী- ৭১৫)
হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে গর্ভবর্তী নারী নিজের জীবনের আশংকা করে এবং যে স্তন্যদানকারী নারী নিজের সন্তানের জীবনের উপর আশংকা করে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এদের উভয়ের জন্য সাওম ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ দিয়েছেন। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৬৬৮)
দুগ্ধপানকারিনী ও গর্ভবতী মায়ের দুইটি অবস্থা হতে পারে:
১. রোজা রাখার দ্বারা তার স্বাস্থ্যের উপর কোন প্রভাব না পড়বে না। অর্থাৎ তার জন্য রোজা রাখাটা কষ্টকর না হওয়া এবং তার সন্তানের জন্যেও আশংকাজনক না হওয়া। এমন নারীর উপর রোজা রাখা ফরজ; তার জন্য রোজা ভাঙা নাজায়েজ।
২. রোজা রাখলে তার নিজের স্বাস্থ্য অথবা সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার আশংকা করা এবং তার জন্যে রোজা রাখাটা কষ্টকর হওয়া। এমন নারীর জন্য রোজা না-রাখা জায়েয আছে; তিনি এ রোজাগুলো পরবর্তীতে কাজা পালন করবেন। বরং এ অবস্থায় নারীর জন্য রোজা না-রাখাই উত্তম; রোজা রাখা মাকরূহ।
কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন যদি তার সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতির আশংকা হয় তাহলে তার উপর রোজা ছেড়ে দেওয়া ফরজ; রোজা রাখা হারাম।
আল-মুরদাউয়ি ‘আল-ইনসাফ’ নামক গ্রন্থে (৭/৩৮২) বলেন: এমতাবস্থায় এ নারীর জন্য রোজা রাখা মাকরূহ...। ইবনে আকীল উল্লেখ করেছেন যে, গর্ভবতী ও দুগ্ধপানকারিনী নারী যদি নিজের গর্ভস্থিত ভ্রূণ ও সন্তানের ক্ষতির আশংকা করেন তাহলে রোজা রাখা জায়েজ হবে না; আর যদি ক্ষতির আশংকা না করেন তাহলে রোজা ছেড়ে দেয়া জায়েয হবে না।
রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া কখন ও কীভাবে দেবেন:
যে বৃদ্ধ বা অসুস্থ ব্যক্তির রোজা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাজা করতে পারবে এমন সম্ভাবনাও নেই, এমন ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া প্রদান করবে। (সুরা বাকারা: ১৮৪)
ছাবেত আলবুনানী (রহ.) বলেন, আনাস ইবনে মালেক (রা.) যখন বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না তখন তিনি রোজা না রেখে (ফিদিয়া) খাবার দিতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযযাক, হাদিস ৭৫৭০)
ইকরিমা (রহ.) বলেন, আমার মা প্রচণ্ড তৃষ্ণা-রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না। তার সম্পর্কে আমি তাউসকে (রহ.) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, প্রতিদিনের পরিবর্তে মিসকীনকে এক মুদ (বর্তমান হিসাবে পৌনে দুই কেজি) পরিমাণ গম দান করবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭৫৮১)
মাসআলা
এক রোজার পরিবর্তে এক ফিদিয়া ফরজ হয়। এক ফিদিয়া হল, কোনো মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো অথবা এর মূল্য প্রদান করা।
হজরত সায়ীদ ইবনে মুসায়্যিব (রহ.) বলেন (আর যাদের রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর তারা ফিদিয়া একজন মিসকিনকে খাবার প্রদান করবে) এই আয়াত রোজা রাখতে অক্ষম বৃদ্ধের জন্য প্রযোজ্য। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭৫৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৬)
যাদের জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া দেওয়ার অনুমতি রয়েছে তারা রমজানের শুরুতেই পুরো মাসের ফিদিয়া দিয়ে দিতে পারবে। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭)
উপরোক্ত দুই শ্রেণীর মানুষ ছাড়া (অর্থাৎ দুর্বল বৃদ্ধ ও এমন অসুস্থ ব্যক্তি, যার ভবিষ্যতে রোজার শক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই) আরো যাদের জন্যে রোজা ভাঙা জায়েজ আছে, (যেমন, মুসাফির, গর্ভবতী ও শিশুকে স্তন্যদানকারিণী) তারা রোজা না রাখলে রোযার ফিদিয়া দেবে না; বরং পরে কাজা করবে।
আর ওযরের হালতে মৃত্যুবরণ করলে কাজা ও ফিদিয়া কিছুই ওয়াজিব হবে না। অবশ্য ওযরের হালত শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ মুসাফির মুকিম হওয়ার পর, গর্ভবতী নারীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া ও স্রাব বন্ধ হওয়ার পর এবং স্তন্যদানকারিণী স্তন্যদান বন্ধ করার পর যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে ওযর শেষে যে কয়দিন সময় পেয়েছে সে কয়দিনের কাজা জিম্মায় আসবে। কাজা না করলে উক্ত দিনগুলোর ফিদিয়া প্রদানের ওসিয়ত করে যেতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৩—৪২৪; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৫৫)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, গর্ভবতী নারী ও শিশুকে স্তন্যদানকারিণীর জন্যে রমজানে রোজা না রাখার অবকাশ রয়েছে। তারা ফিদিয়া আদায় করবে না; বরং রোজাগুলো কাযা করে নেবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭০৬৪)
ছুটে যাওয়া রোজার কাজা সম্ভব না হলে মৃত্যুর পূর্বে ফিদিয়া দেওয়ার ওসিয়ত করে যাওয়া জরুরি। ওসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশরা মৃতের পক্ষ থেকে ফিদিয়া দিয়ে দিলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন।
তবে মৃতব্যক্তি ওসিয়ত না করে গেলে সেক্ষেত্রে মিরাসের ইজমালী সম্পদ থেকে ফিদিয়া দেওয়া হবে না। একান্ত দিতে চাইলে বালেগ ওয়ারিশরা তাদের অংশ থেকে দিতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪২৪-৪২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭)
এক রোজার ফিদিয়া একজন মিসকিনকে দেওয়া উত্তম। তবে একাধিক ব্যক্তিকে দিলেও ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে। একাধিক ফিদিয়া এক মিসকিনকে দেওয়া জায়েজ।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যে বৃদ্ধ রোজা রাখতে সক্ষম নন তিনি রোজা না রেখে প্রতি দিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে আধা সা (অর্থাৎ প্রায় পৌনে দুই কেজি) গম দিয়ে দেবেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭৫৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৭)
দারিদ্র্যের কারণে কেউ যদি ফিদিয়া আদায় করতে অক্ষম হন, তাহলে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। পরে কখনো সামর্থ্যবান হলে ফিদিয়া আদায় করে দেবেন।
কেউ যদি সুস্থ হয়ে ওঠা বা রোজা রাখার সক্ষমতা অর্জনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে তার জিম্মায় ওয়াজিব থাকা কাজা রোজার ফিদিয়া আদায় করে, কিন্তু পরবর্তীতে আবার রোজা রাখার সক্ষমতা ফিরে পায়, তাহলে তার জন্য ওই রোজাগুলোর কাজা আদায় করা আবশ্যক। পূর্বের আদায়কৃত ফিদিয়া বাতিল হয়ে যাবে এবং তা নফল সদকা গণ্য হবে।
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ وَلاَ مَرَضٍ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ وَإِنْ صَامَهُ
যে ব্যক্তি কোনো ওযর বা অসুস্থতা ব্যতিরেকে রমযানের একটি রোযা পরিত্যাগ করবে সে যদি ঐ রোযার পরিবর্তে আজীবন রোযা রাখে তবুও ঐ এক রোযার ক্ষতি পূরণ হবে না। (তিরমিযী ৭২৩)
সুতরাং এমন ব্যক্তির সর্ব প্রথম কর্তব্য হলো, আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে তাওবা করা।
সংকলনঃ
No comments:
Post a Comment