Friday, July 17, 2026

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন যেভাবে

গরমে বিব্রতকর সমস্যা হলো ঘাম ঘামের দুর্গন্ধ। শুধু দুর্গন্ধ নয়, সময় শরীরে ঘাম জমে ছত্রাকজাতীয় সংক্রমণ দেখা যায়। শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে; বিশেষ করে কুঁচকি, আঙুলের ফাঁক যৌনাঙ্গে সংক্রমণ বেশি হয়। ছাড়া ঘামাচিও দেখা দিতে পারে।

 

কারণ

ত্বকে দুই ধরনের গ্রন্থি থেকে ঘামের উৎপত্তি। শরীরচর্চা বা পরিশ্রমের কারণে যে ঘাম উৎপন্ন হয়, তা তৈরি করে একরিন গ্রন্থি। ঘামে দুর্গন্ধ নেই এবং তা আমাদের শরীর ঠান্ডা করে। আরেকটি হলো, অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি; যার উপস্থিতি বগল গোপনাঙ্গের আশপাশে। এখান থেকে যে ঘাম হয়, তাতে রয়েছে বিশেষ ধরনের প্রোটিন। ত্বকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়ার কারণে এটি দুর্গন্ধে রূপান্তরিত হয়।

 

খাবারে সালফারের পরিমাণ বেশি থাকলে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে। লাল মাংস, ডিম, পেঁয়াজ, ব্রকলি, রসুন ইত্যাদিতে সালফার বেশি থাকে। 

বিভিন্ন খাবারে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এসব খাবার খেলেও দুর্গন্ধ তৈরি হয়। আবার যাঁরা বেশি অ্যালকোহল পান করেন, তাঁদের শরীর থেকেও বাজে গন্ধ বের হতে পারে।

মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন থাকলে দেহের অ্যাপোক্রিন গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেমকে আরও উত্তেজিত করে তোলে। কারণে দুর্গন্ধ বেড়ে যায়।

 

বর্ষাকালে ভ্যাপসা গরমের কারণে শরীরে ঘাম হয়। একটু রোদে বের হলেই বা রান্নাঘরে কিছুক্ষণ কাজ করলেই পোশাক ঘামে ভিজে শরীরের সঙ্গে লেগে যায়। অনেকেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম ব্যবহার করেন, কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই তার গন্ধ মিলিয়ে যেতে শুরু করে।

 

আর যারা সারাদিন বাড়িতে থাকেন, তাদের তো বারবার সুগন্ধি ব্যবহার করাও সম্ভব নয়। তবে শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে সব সময় কৃত্রিম সুগন্ধির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করলেই ঘামের দুর্গন্ধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

 

গোলাপজল

গোলাপজল শুধু ত্বক সতেজ রাখে না, এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীরের দুর্গন্ধ কমাতেও সাহায্য করে। খাঁটি গোলাপজলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অ্যাস্ট্রিনজেন্ট উপাদান রয়েছে, যা দুর্গন্ধ তৈরির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে পারে। পাশাপাশি এটি ত্বকে সতেজ সুগন্ধ দিয়ে থাকে। ১০০ মিলি গোলাপজলের সঙ্গে টেবিল চামচ বিশুদ্ধ পানি মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। গোসলের পর বগল, ঘাড় এবং হাঁটুর পেছনে স্প্রে করলে দীর্ঘ সময় সতেজ অনুভব করবেন।

 

ফিটকিরি

প্রাকৃতিক ডিওডরেন্ট হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার বহুদিনের। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ শরীরের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বকের ছিদ্র সাময়িকভাবে সংকুচিত করে অতিরিক্ত ঘামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। গোসলের পর একটি ফিটকিরির টুকরো সামান্য ভিজিয়ে বগল, ঘাড় বা পায়ের ভাঁজে আলতোভাবে ঘষে নিন। এরপর আর ধোয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবেই শুকিয়ে যেতে দিন।

 

চন্দন গুঁড়া

চন্দনের শীতলতা এবং প্রাকৃতিক সুগন্ধ বহুদিন ধরেই রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করতে সাহায্য করে এবং ত্বকে দীর্ঘক্ষণ মনোরম সুবাস ধরে রাখে। টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। বগল, ঘাড় বা যেসব স্থানে বেশি ঘাম হয় সেখানে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

 

নিমপাতা

নিমের শক্তিশালী জীবাণুনাশক গুণ শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমে এবং সতেজ অনুভূতি বজায় থাকে। মুঠ নিমপাতা লিটার পানিতে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠান্ডা হলে ছেঁকে গোসলের পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন। সপ্তাহে কয়েকদিন এই অভ্যাস করলে উপকার পাবেন।

 

কর্নস্টার্চ অ্যারারুট পাউডার

যাদের অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাদের জন্য এই প্রাকৃতিক মিশ্রণ বেশ কার্যকর। এটি ত্বকের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে শরীরকে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে, তবে ঘামগ্রন্থি বন্ধ করে দেয় না। অর্ধেক কাপ অ্যারারুট পাউডারের সঙ্গে চা চামচ কর্নস্টার্চ এবং টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গোসলের পর পরিষ্কার শুকনো ত্বকে হালকা করে লাগিয়ে নিন।

 

লেবুর ব্যবহার

লেবু দেহের পিএইচের ভারসাম্য রক্ষা করে। লেবুর রস দেহের ভাঁজগুলোতে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এতেও দুর্গন্ধ কমবে।

 

বাতাস চলাচল করে, এমন পরিষ্কার পাতলা পোশাক পরুন।

অন্তর্বাস মোজা পরিষ্কার রাখুন। 

সিনথেটিক পোশাক পরা চলবে না। সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে।

নিয়মিত গোসল করুন। 

 

খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিন

শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই হবে না, শরীরের দুর্গন্ধ অনেক সময় খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেও সম্পর্কিত। অতিরিক্ত রসুন, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শরীরের গন্ধ বাড়াতে পারে। তাই বর্ষাকালে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, বেশি করে ফল শাকসবজি খান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন। রোদে বের হতে হলে ছাতা ব্যবহার করবেন। হালকা রঙের কাপড় পরবেন।

 

সামান্য কিছু অভ্যাস বদল আর কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের নিয়মিত ব্যবহারেই বর্ষার ভ্যাপসা গরমেও শরীর থাকবে অনেক বেশি সতেজ দুর্গন্ধমুক্ত।

তারপরও অতিরিক্ত ঘাম হলে ত্বক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Collected by: Al Hajj Muhammad Nazimul Hasan Khan (M. Sc.)- Founder & President- Torun Unnayan Songo, Sherpur, Bangladesh. 

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবেন যেভাবে

গরমে বিব্রতকর সমস্যা হলো ঘাম ও ঘামের দুর্গন্ধ। শুধু দুর্গন্ধ নয় , এ সময় শরীরে ঘাম জমে ছত্রাকজাতীয় সংক্রমণ দেখা যায়। শরীরে...